কলকাতার ফুটবল ও বাঙালি: শিল্ড জয় থেকে ডার্বির উন্মাদনা

বাঙালির রক্তে ফুটবল। ঐতিহাসিক শিল্ড জয়, দুই প্রধানের লড়াই আর পাড়ার মাঠের ফুটবল নিয়ে একটি লেখা।
কলকাতার ময়দানে ফুটবল খেলা

ভূমিকা

ক্রিকেট এখন ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, তবু কলকাতার আবেগের অনেকখানি জুড়ে আছে ফুটবল। বড় ম্যাচের দিন শহর দুভাগ হয়ে যায়, সবুজ-মেরুন আর লাল-হলুদ। চায়ের দোকান থেকে অফিসের ক্যান্টিন, সব জায়গায় একটাই আলোচনা।

কলকাতাকে অনেকে ভারতীয় ফুটবলের মক্কা বলেন। দেশের সবচেয়ে পুরনো কয়েকটি ক্লাব এই শহরের। ফুটবল এখানে খেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে ইতিহাস, পরিচয় আর আবেগের অংশ হয়ে গেছে।

মোহনবাগান মাঠ ও গ্যালারি
ছবি: Pinakpani, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

ঐতিহাসিক শিল্ড জয়

পরাধীন ভারতে, ১৯১১ সালে, মোহনবাগান দল আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ইংরেজ সেনাদলের দল ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে হারিয়েছিল। ভারতীয় খেলোয়াড়েরা অনেকে খালি পায়ে খেলেছিলেন। প্রতিপক্ষের পায়ে ছিল বুট।

পরাধীন জাতির কাছে এই জয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। মাঠের বাইরে হাজার হাজার মানুষ খবরের অপেক্ষায় ছিলেন বলে শোনা যায়। সেই দিনটিকে ঘিরে পরে ছবিও তৈরি হয়েছে, আর মোহনবাগান সমর্থকেরা আজও দিনটি সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করেন।

দুই প্রধান

কলকাতার ফুটবলে মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের অন্যতম পুরনো আর বিখ্যাত। দুই দলের ম্যাচকে বলা হয় কলকাতা ডার্বি। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, অভিবাসনের স্মৃতি, এমনকি খাওয়াদাওয়াও।

জেতার দিনে ইলিশ না চিংড়ি, এই রসিকতা বাঙালি মাত্রেই জানে। পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষের আবেগ ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে, আর এদেশীয়দের অনেকের টান মোহনবাগানে, এমন একটা চেনা ভাগ আছে। মহামেডান স্পোর্টিংও কলকাতার ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নাম।

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন

সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন দেশের অন্যতম বড় স্টেডিয়াম। বড় ম্যাচের দিন গ্যালারি ভরে যায়, স্লোগান আর পতাকায় চারদিক রঙিন। ঢাক, বাঁশি আর মশালের আলোয় পরিবেশটা উৎসবের মতো হয়ে ওঠে।

ময়দানের পুরনো ক্লাব মাঠগুলোরও আলাদা ঐতিহ্য আছে। ঘাসের গন্ধ, কাঠের গ্যালারি আর পুরনো তাঁবুর গল্প প্রবীণ সমর্থকদের মুখে মুখে ফেরে। স্টেডিয়ামে যাওয়ার দিন ভিড়ের রাস্তায় সাবধানে চলাফেরা কোরো, পড়ো পথ নিরাপত্তা রচনা।

সল্টলেক স্টেডিয়ামে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা
ছবি: Billjones94, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

পাড়ার ফুটবল

বড় দলের বাইরেও বাংলার গ্রামে-মফস্সলে ফুটবল বেঁচে আছে পাড়ার টুর্নামেন্টে। বর্ষায় কাদা মাঠে খেলা, শিল্ড আর কাপের লড়াই, এখান থেকেই উঠে আসেন ভবিষ্যতের খেলোয়াড়। অনেক বিখ্যাত খেলোয়াড়ের শুরু এমনই ছোট মাঠে।

খেলার আগে শরীর তৈরি নিয়ে পড়ো খেলার আগে ওয়ার্ম-আপ ও পরে কুল-ডাউন। নিয়মিত খেললে শরীর আর মন দুটোই ভালো থাকে, পড়ো বাড়িতে সহজ ব্যায়াম। মাঠ কমে যাওয়ার দুশ্চিন্তা নিয়ে আছে মোবাইলের পর্দায় হারিয়ে যাচ্ছে শৈশবের খেলার মাঠ।

সমর্থকদের দায়িত্ব

প্রতিদ্বন্দ্বিতা খেলার মজা বাড়ায়। তা যেন কখনও হিংসা বা গালিগালাজে না গড়ায়। মাঠে আর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের প্রতিও সম্মান রাখা দরকার।

ম্যাচ শেষে দুই দলের সমর্থক একসঙ্গে চা খেতে পারলে তবেই খেলার আসল জয়। স্টেডিয়ামে আবর্জনা ফেলে আসা বা আসন ভাঙা কোনো সমর্থকের কাজ হতে পারে না। খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবের একটা গল্প পড়ো বৃষ্টির দিনের ক্রিকেট ম্যাচ।

শেষ কথা

ট্রফি আসুক বা না আসুক, বাঙালির ফুটবলপ্রেম কমেনি। পাড়ার মাঠে একটা বল গড়ালেই এখনও ভিড় জমে যায়। প্রজন্ম বদলেছে, ক্লাবের নাম বদলেছে, তবু আবেগটা একই আছে।

স্কুলের ক্রীড়া দিবস নিয়ে প্রতিবেদন লেখার উদাহরণ আছে ক্রীড়া দিবস প্রতিবেদন-এ। পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি, মাঠেও এই কথাটা খাটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts
Scroll to Top