শান্তিনিকেতন ভ্রমণ: রবীন্দ্রনাথের আশ্রমে দুদিন

কলকাতা থেকে সপ্তাহান্তের ছোট্ট ভ্রমণের জন্য শান্তিনিকেতন বাঙালির প্রিয় গন্তব্য। কী দেখবে, কখন যাবে, কী মনে রাখবে।
শান্তিনিকেতনের উপাসনা গৃহ

পরিচয়

বীরভূম জেলার বোলপুরের কাছে শান্তিনিকেতন। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে আশ্রম স্থাপন করেছিলেন, পরে রবীন্দ্রনাথ গড়ে তোলেন বিশ্বভারতী। লাল মাটি, খোয়াই, সোনাঝুরির জঙ্গল আর রবীন্দ্রস্মৃতি মিলিয়ে জায়গাটার আলাদা আকর্ষণ।

শান্তিনিকেতন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাতেও স্থান পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথ এখানে খোলা আকাশের নিচে গাছের তলায় ক্লাস নেওয়ার প্রথা চালু করেছিলেন, প্রকৃতির মধ্যে শেখার ভাবনা থেকে। সেই আশ্রমের পরিবেশ আজও অনেকটা টিকে আছে।

বিশ্বভারতীর চীনা ভবন
ছবি: Bodhisattwa, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons

কীভাবে যাবে

কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে বোলপুর-শান্তিনিকেতন স্টেশনে নানা ট্রেন যায়। সড়কপথেও যাওয়া যায়। ট্রেনের সময় আর টিকিট আগে থেকে দেখে নিও।

স্টেশন থেকে টোটো বা রিকশায় ঘোরা সুবিধাজনক। অনেক টোটোচালক দর্শনীয় জায়গাগুলো একসঙ্গে ঘুরিয়ে দেখান, যাত্রার আগে কোন কোন জায়গা যাবে তা ঠিক করে নিও। সাইকেল ভাড়া নিয়ে ঘোরাও খুব আনন্দের, পড়ো সাইকেল চালানোর উপকারিতা।

কী দেখবে

উত্তরায়ণ ও রবীন্দ্র ভবন: রবীন্দ্রনাথের বসতবাড়িগুলি আর তাঁর স্মৃতিবিজড়িত সংগ্রহশালা। এখানে কবির ব্যবহৃত জিনিস, চিঠিপত্র আর ছবি দেখা যায়।
উপাসনা গৃহ: রঙিন কাচে মোড়া প্রার্থনাগৃহ।
ছাতিমতলা: যেখানে দেবেন্দ্রনাথ ধ্যান করতেন বলে কথিত।

কলাভবন ও সংগীতভবন: শিল্প আর সংগীতচর্চার কেন্দ্র, বাইরে থেকে ভাস্কর্য দেখা যায়। রামকিঙ্কর বেইজের বিখ্যাত ভাস্কর্যগুলি এখানকার বড় আকর্ষণ।
খোয়াই ও সোনাঝুরি: লাল মাটির ঢেউখেলানো প্রান্তর আর সোনাঝুরি গাছের বন। সপ্তাহান্তে সেখানে হস্তশিল্পের হাট বসে।
কঙ্কালীতলা: কাছাকাছি একটি সতীপীঠ।

হাটে বাউল গান শোনা আর কাঁথাস্টিচ বা ডোকরার জিনিস কেনা অনেকের প্রিয় অভিজ্ঞতা। গোধূলির আলোয় খোয়াইয়ের রং বদলে যায়, সেই দৃশ্য মনে থেকে যায়। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য আর গান জানা থাকলে প্রতিটি জায়গা আরও অর্থপূর্ণ লাগে।

কখন যাবে

শীতকাল ঘোরার জন্য আরামদায়ক। পৌষমেলা আর বসন্ত উৎসবের সময় খুব ভিড় হয়, থাকার জায়গা অনেক আগে ঠিক করতে হয়। পড়ো পৌষমেলা ও বাঙালির শীতের উৎসব আর বসন্ত উৎসব ও রবীন্দ্রসঙ্গীত।

গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম পড়ে, তখন গেলে দুপুরে বাইরে ঘোরা এড়িয়ে চলো, পড়ো গ্রীষ্মে হিটস্ট্রোক সতর্কতা। বর্ষায় লাল মাটি আর সবুজের রং অন্যরকম সুন্দর, যদিও কাদা হয়। শ্রাবণে বৃক্ষরোপণ আর বর্ষামঙ্গলের মতো অনুষ্ঠানের কথা পড়ো বর্ষার রবীন্দ্রসঙ্গীত লেখায়।

পৌষমেলায় বাউলেরা
ছবি: Shayaksen.ed, CC BY 3.0, Wikimedia Commons

মনে রাখবে

বিশ্বভারতী একটি সক্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসের নিয়ম মেনে চলো, ক্লাস চলাকালীন বিরক্ত কোরো না। সংগ্রহশালা কোন দিন বন্ধ থাকে, যাওয়ার আগে খোঁজ নাও।

খোয়াই আর সোনাঝুরিতে প্লাস্টিক ফেলবে না। গাছের ডাল ভাঙা বা ফুল ছেঁড়া এই জায়গার পরিবেশের সঙ্গে মানায় না। জলের বোতল নিজের কাছে রেখো, ফেরার সময় ব্যাগে ভরে নিয়ে এসো, পড়ো প্লাস্টিক দূষণ রচনা।

শেষ কথা

শান্তিনিকেতনে তাড়াহুড়ো করে সব দেখার চেয়ে ধীরে ঘোরা ভালো। গাছের তলায় বসে একটু রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনলেও মন্দ হয় না। শুরু করতে পারো রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিচিতি দিয়ে।

ফিরে এসে একটা ভ্রমণকাহিনি লিখে রাখতে পারো, স্কুলের রচনায় কাজে লাগবে। লেখার কৌশল আছে বাংলা রচনা লেখার কৌশল-এ। কলকাতার ভেতরে একদিনের বই-ভ্রমণের জন্য দেখো কলেজ স্ট্রিট বইপাড়া ভ্রমণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts
Scroll to Top